ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ Diego Garcia লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত; আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার রাতে এই হামলা সংঘটিত হয়, তবে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না তা স্পষ্ট নয়, যুক্তরাজ্য দাবি করেছে হামলা সফল হয়নি এবং একে তারা বেপরোয়া পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে এটি তাদের জাতীয় স্বার্থ ও মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে; এই সামরিক ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং বর্তমানে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন, যাদের অধিকাংশই মার্কিন বাহিনীর সদস্য; অতীতের বিভিন্ন বড় সংঘাতে এই ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়েও এখান থেকে দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে; বিশ্লেষকদের ধারণা, এই হামলায় ইরান এমন উন্নত বা পরিবর্তিত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে যা তাদের ঘোষিত সীমার বাইরে আঘাত হানার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়, এবং অনেকের মতে মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচির আড়ালে তারা দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন করে আসছে; এ ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্কেও চাপ দেখা দিয়েছে, কারণ শুরুতে ব্রিটিশ সরকার তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে; একই সময়ে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে; বিশেষজ্ঞদের মতে, দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলা কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয় বরং এটি পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা, যার মাধ্যমে ইরান দেখাতে চায় যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোও এখন ঝুঁকির বাইরে নয় এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
