সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি মার্কিন ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যেখানে ব্লুমবার্গ জানায় যে যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বিমান এই প্রথমবারের মতো সরাসরি হামলার শিকার হলো; একই ঘটনার বিষয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে উদ্ধৃত যুক্তরাষ্ট্র ও আরব কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েলও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে শুক্রবার পরিচালিত এই হামলায় ঘাঁটিতে অবস্থানরত অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হন এবং একাধিক জ্বালানি ভরার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরবর্তীতে প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) বিমান মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আকাশভিত্তিক সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং উন্নত রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে শত শত কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পাশাপাশি আকাশ থেকেই কমান্ডারদের কাছে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম; উল্লেখ্য, কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৩০টি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১৬টিতে নেমে এসেছে, আর এই হামলার ফলে তাদের কৌশলগত সক্ষমতায় নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একই সঙ্গে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে এই বিমানের কার্যকর কোনো সহজ বিকল্প বর্তমানে প্রস্তুত নেই এবং এর নিকটতম আধুনিক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত ই-৭ ওয়েজটেইল (E-7 Wedgetail) বিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
