মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেলান্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন Kharg Island-এর কথা, যা ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত; তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে দ্বীপটি দখল করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—তাদের হাতে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প রয়েছে, তবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে মার্কিন বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য সেখানে অবস্থান করতে হবে, এবং তার দাবি অনুযায়ী, দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুব শক্তিশালী নয়, ফলে এটি দখল করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। এর আগে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী দ্বীপটির বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে, যদিও জ্বালানি অবকাঠামো সচেতনভাবে অক্ষত রাখা হয়েছে; একই সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ইরানকে Strait of Hormuz পুনরায় খুলতে চাপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, কারণ এই নৌপথটি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। এদিকে, মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কেও নানা তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে Pentagon-এর কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে এবং United States Central Command নিশ্চিত করেছে যে অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপ দখল করা হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত হানবে, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের টার্মিনালের মাধ্যমে রপ্তানি হয়, যেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে তেল এনে বড় ট্যাংকারে লোড করা হয় এবং গভীর সমুদ্রসীমার সুবিধার কারণে বড় জাহাজ সহজেই এখানে নোঙর করতে পারে; ফলে এই দ্বীপটি শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, বরং ইরানের জ্বালানি রপ্তানির কেন্দ্রীয় স্নায়ুবিন্দু হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, ইরান এই পরিস্থিতিতে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং তাদের শীর্ষ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো বিদেশি বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে; ইতোমধ্যে দ্বীপটিতে অতিরিক্ত সামরিক সদস্য, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপ দখল করা হলে তা ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে; কারণ ইরানের হাতে থাকা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌ-মাইনসহ বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, যদি খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা চালানো হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করবে, তেলের দাম হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে; একই সঙ্গে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে, এমনকি পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে, যা লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সার্বিকভাবে, খারগ দ্বীপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই উত্তেজনা কেবল একটি সামরিক ইস্যু নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার ভবিষ্যৎ পরিণতি এখন বিশ্ববাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
