তেহরানকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় রাজি করাতে চীন-এর ভূমিকা ছিল কি না— বার্তা -এর এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি যতটুকু শুনেছি, তা হলো— হ্যাঁ।” এই সংঘাত থামাতে সংস্থা এএফপি বেইজিং-এর জন্যও একটি বিশেষ কৌশলগত তাগিদ রয়েছে, কারণ মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মূলত মার্চের শেষ দিকে হওয়ার কথা ছিল; একটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা Associated Press জানিয়েছে, বেইজিং নীরবে কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরভাবে একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে এবং পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর-এর মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তেহরান-কে শান্তির পথে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছে; সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার প্রতিটি ধাপে চীনা কর্মকর্তারা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন, যদিও চীন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে এক কর্মকর্তা জানান মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানের ওপর নিজেদের প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে বেইজিং; বৈশ্বিক রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার লক্ষ্যেই এটি চীনের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে ওয়াশিংটন-এ অবস্থিত চীনা দূতাবাস পূর্বে জানিয়েছিল যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বেইজিং “শান্তির জন্য নিরলসভাবে” কাজ করছে; চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “সব পক্ষকে আন্তরিকতা দেখাতে হবে এবং দ্রুত এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে— যা আদতেই শুরু হওয়া উচিত ছিল না,” এবং তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে, যা নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন; এদিকে গত মঙ্গলবার চীন-এর পাশাপাশি রাশিয়া-ও জাতিসংঘ-এর একটি প্রস্তাবে ভেটো দেয়, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালী-তে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল; ইরানের বিপক্ষে এই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার সময় জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু কং যুক্তি দেন যে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই একটি সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, তখন এই প্রস্তাব গৃহীত হলে তা ভুল বার্তা দেবে।
