সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ। রয়টার্স জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র হামলাগুলো কারা চালিয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলেনি, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ইরানের বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসপিএ জানায়, কিছু স্থাপনায় আগের হামলাসহ সর্বশেষ আঘাতগুলো রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং ইয়ানবু শিল্প শহরের গুরুত্বপূর্ণ তেল, গ্যাস, শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত হামলাগুলোর ফলে তেলক্ষেত্রের উৎপাদন, শোধনাগার ও পাইপলাইন প্রবাহের ওপর কী প্রভাব পড়েছে সে বিষয়ে সৌদি আরব আগে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলকে বিকল্প পথে সরিয়ে দিচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হতে পারছে না। সরবরাহে যেকোনো ঘাটতি এই সংকটময় পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলবে। এটি বাজারের জন্য কোনো সুখবর নয়।’ এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই সপ্তাহে ইরান-মার্কিন যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তবে ইসরাইল লেবাননের ওপর হামলা অব্যাহত রাখায় তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে তার প্রায় পূর্ণ অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না; এই প্রণালীটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ। প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকায় পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটিই ছিল সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথ। রয়টার্স বুধবার জানায়, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান ওই পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় সৌদি জ্বালানি কোম্পানির শিল্প নিরাপত্তা দলের একজন সৌদি নাগরিক নিহত এবং আরও সাতজন কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে এসপিএ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরব শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যার অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল, এতে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ বহু মানুষ নিহত হন। জবাবে তেহরান ইসরাইল এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনা থাকা উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়।
সৌদি আরব জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে তেল উৎপাদন দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেল কমেছে
Oplus_131072
Sign Up For Daily Newsletter
Be keep up! Get the latest breaking news delivered straight to your inbox.
[mc4wp_form]
By signing up, you agree to our Terms of Use and acknowledge the data practices in our Privacy Policy. You may unsubscribe at any time.
Create an Amazing Newspaper
Discover thousands of options, easy to customize layouts, one-click to import demo and much more.
Learn More