ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেলান্ড ট্রাম্প এবং সামরিক জোটের মহাসচিব মার্ক রিট সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জোট ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
বুধবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান যুদ্ধের সময় জোটের সমর্থন না পাওয়ায় তিনি এই সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে, যেসব সদস্য রাষ্ট্রকে তিনি “সহযোগিতাহীন” মনে করেন—যেমন যুক্তরাজ্য—সেসব দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও প্রশাসন বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব Karoline Leavitt সাংবাদিকদের বলেন, “গত ছয় সপ্তাহে এই জোট আমেরিকার জনগণের প্রতি যে আচরণ করেছে, তা দুঃখজনক। অথচ এই জোটের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বড় অংশ বহন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।”
তিনি আরও জানান, জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট আগেও আলোচনা করেছেন এবং রুটের সঙ্গে বৈঠকেও এটি আলোচনায় আসবে।
এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সদ্য দুই সপ্তাহের একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ট্রাম্প তার পশ্চিমা মিত্রদের ওপর ক্ষুব্ধ, কারণ তারা ইরানের বিরুদ্ধে তার সামরিক অবস্থানকে সমর্থন করেনি।
ট্রাম্প ইতোমধ্যে এই জোটকে “কাগুজে বাঘ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নেতৃত্ব না দেওয়া এবং নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে জোট যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছে।
ব্যক্তিগতভাবেও তিনি একাধিক নেতার সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-কে “উইনস্টন চার্চিল নন” বলে কটাক্ষ করেছেন এবং ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরীগুলোকে “খেলনা” বলে বিদ্রূপ করেছেন।
অন্যদিকে, জোটের মহাসচিব রুটে অতীতে ট্রাম্পকে নিজের দিকে টানতে সফল হয়েছেন বলে পরিচিত। বৈঠকের আগে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কে রুবিও-এর সঙ্গে ইরান, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জোটের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, তিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক জোট এখন একাধিক সংকটে জর্জরিত—বিশেষ করে ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে। গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে শুরু করে ইউক্রেন যুদ্ধের সমর্থন কমিয়ে দেওয়া—এসব পদক্ষেপ জোটটির ভেতরে গভীর অস্থিরতা তৈরি করেছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি জোট ত্যাগের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন, তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও চীন জোটের ভাঙন পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প-রুটে বৈঠক শুধু একটি কূটনৈতিক বৈঠক নয়—বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও পশ্চিমা জোটের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে।