মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেলান্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে ইরান। তবে তার এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তারা জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি কাউকে দেওয়া হয়নি।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহীম রেজাই আল-জাজিরা-কে এ কথা জানান।
রেজাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা বা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো প্রস্তাবই তেহরান মেনে নেবে না। এটি তাদের জন্য একটি ‘কৌশলগত রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা।
সম্প্রতি ডেলান্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান তাদের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। শুক্রবার এক পোস্টে তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক ‘ধুলা’ (ইউরেনিয়াম) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে যাচ্ছে।”
একইদিন বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে তেহরানের সঙ্গে কাজ করবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গেই এটি উদ্ধার করব। আমরা ধীরগতিতে ইরানের ভেতরে প্রবেশ করব। এরপর বড় বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে খননের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম বের করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।”
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানি বার্তা সংস্থা তাসলিম নিউজ-কে বাঘাই বলেন, “সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। যেকোনো পরিস্থিতিতেই এটি কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।”
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্পের মতে, ওই হামলার পর সেখানে যা অবশিষ্ট রয়েছে, সেটিই এই ‘পারমাণবিক ধুলা’ বা নিউক্লিয়ার ডাস্ট।
ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ করা ৯০০ পাউন্ডেরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যেকোনো আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, তারা কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।