চীন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাঁচটি “টিপট” (ছোট ও স্বাধীন) তেল শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি তেল আমদানির অভিযোগে এসব শোধনাগারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা কোনো জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই চীন একটি বিশেষ নিষেধাজ্ঞা-বিরোধী নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ চীনের অভ্যন্তরে বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বীকৃত হবে না এবং তা বাস্তবায়ন বা মানা বাধ্যতামূলক নয়। এই সিদ্ধান্তকে চীন তাদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ গত ২৪ এপ্রিল ঘোষণা দেয় যে, হেংলি পেট্রোকেমিক্যালসহ পাঁচটি চীনা শোধনাগার ইরানি তেল ক্রয়ের মাধ্যমে ইরানের সামরিক খাতে বিপুল অর্থ প্রবাহে সহায়তা করছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, হেংলি একাই ইরানের জন্য শত শত মিলিয়ন ডলার আয় সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য শোধনাগারগুলোও আগের বছর থেকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (দালিয়ান) রিফাইনারি ছাড়াও শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল, হেবেই শিনহাই কেমিক্যাল, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংসিং কেমিক্যাল—এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের তথাকথিত “টিপট” শোধনাগারগুলো তুলনামূলকভাবে ছোট এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়, তবে এগুলো দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব শোধনাগার সাধারণত ইরান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে থাকে।
চীনের মোট শোধন ক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এসব টিপট রিফাইনারির হাতে রয়েছে। যদিও এগুলোর মুনাফার মার্জিন কম এবং দেশীয় চাহিদা হ্রাসের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে চাপের মধ্যে রয়েছে, তবুও তারা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব শোধনাগারের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন ও পণ্যের উৎস শনাক্তকরণসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।