যুদ্ধবিরতির সাময়িক শান্তিকে কাজে লাগিয়ে ইরান পূর্বে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা পুনরায় সচল করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ববর্তী বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বহু ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনর্গঠন ও পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে তেহরান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী কিছু কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র আবারও কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা।
মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে পুনরায় কার্যকর হয়েছে। এছাড়া দেশটি তাদের যুদ্ধ-পূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের বড় অংশ এবং মোবাইল উৎক্ষেপণ সক্ষমতাও ধরে রাখতে পেরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে ইরানের সামরিক অবকাঠামো প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল ও দ্রুত পুনর্গঠন সক্ষম। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি তথ্য অনুযায়ী, পূর্বে হামলার শিকার হওয়া ভূগর্ভস্থ টানেল, ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে আবারও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সেই দাবিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে বলা হয়েছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো “মারাত্মকভাবে ধ্বংস” করা হয়েছে। নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তেহরান এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং দ্রুত পুনর্গঠন চালিয়ে যাচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে এখন শুধু হামলা নয়, বরং ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো, মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার ক্ষমতাই বড় ভূমিকা পালন করছে। ইরানের এই পুনঃসক্রিয়তা ভবিষ্যতের সামরিক কৌশল ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি যে এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে— মধ্যপ্রাচ্য কি নতুন সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, নাকি এটি শুধুই আরেকটি সাময়িক বিরতি।