আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ঘটনাটি বিশেষ করে ভারতের জন্য স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে, কারণ সংশ্লিষ্ট জাহাজটি ভারতীয় একটি বন্দরে যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর নিজ দেশে ফিরছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাজটিকে ‘আইআরআইএস ডেনা’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ফ্রিগেট শ্রেণির এই যুদ্ধজাহাজটি ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি বন্দর সফর শেষ করে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সফরকালে ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয় জাহাজটি। হামলায় অন্তত ৮০ জনের বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায়, যা উপসাগরীয় সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে বহু দূরে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের টানা সামরিক উত্তেজনা চলছিল। উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন সরাসরি টর্পেডো ব্যবহার করে একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে—এ তথ্য ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ
যদিও হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত হয়েছে, তবুও এটি ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। কারণ ঘটনাস্থলকে ভারত দীর্ঘদিন ধরে তার সামুদ্রিক প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তার ওপর, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি সম্প্রতি ভারতীয় নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এক গবেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের জলসীমা ত্যাগের অল্প সময়ের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যাওয়া আঞ্চলিক পর্যায়ে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, জাহাজটি যদিও আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল, তবুও সেটি এমন একটি সমুদ্রপথ দিয়ে যাচ্ছিল যা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং ভারতের কৌশলগত স্বার্থের আওতায় পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানো এবং নিজ উপকূলের কাছাকাছি তৃতীয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে না দেওয়া। সাম্প্রতিক এই হামলা এসব অগ্রাধিকারের ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি।