মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে এবং এতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছিল যে ইরানের ওপর হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও পাল্টা আঘাত আসতে পারে, বিশেষ করে যদি তেহরান মনে করে ওই দেশগুলো মার্কিন হামলাকে সমর্থন দিচ্ছে, তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যার ফলে দেশটির আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরে টানা ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, আবুধাবির বানি ইয়াস এলাকায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন, একই সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণের পরও তাদের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা এখনও বজায় রয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বৈরুতে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে এবং আরও কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে, এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট ও অন্তত পাঁচটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে যা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত করা যায়নি, একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় বিশ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী সচল করতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চাইলেও জার্মানি, স্পেন, ইতালি, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ সামরিক সহায়তা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অনুমোদনের অভাবের কথাও উল্লেখ করেছে, এতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন, একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই পরিস্থিতির কারণে তার নির্ধারিত বিদেশ সফর পিছিয়ে যেতে পারে, অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন মালিকানাধীন শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এবং এসব এলাকার আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, সার্বিকভাবে এই সংঘাত ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং বিশ্লেষকদের মতে এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
