মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে “অবিস্ফোরিত শত্রু গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয়করণ” কার্যক্রমের সময়। স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ব্যবহৃত কিছু বিপজ্জনক গোলাবারুদ নিরাপদভাবে ধ্বংস করার সময় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
এর আগে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি রহস্যজনক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করলেও সেসময় কোনো কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও নতুন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেলান্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেন, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর “খুব ভালো সম্ভাবনা” এখন বিদ্যমান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিস্ফোরণ শুধুমাত্র একটি সামরিক নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ইরানের সামরিক ও নৌ-কৌশলগত অবস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, সেটি পুনরায় চালুর জন্য কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল কিনা তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাব এবং যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর পরিবেশ মধ্যপ্রাচ্যে আপাত শান্তির আড়ালে গভীর অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান যদি সত্যিই নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার পথে এগোয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে কেশম দ্বীপের বিস্ফোরণের মতো ঘটনা প্রমাণ করছে, অঞ্চলটি এখনো যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।