ইরানে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ জোট যুদ্ধবিমানের এক পাইলটকে ঘিরে দেশটির অভ্যন্তরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, একজন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে অপর পাইলটের পরিণতি এখনও অনিশ্চিত। এদিকে ইরান সরকার ওই পাইলটকে ধরিয়ে দিতে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
বি বি সি -এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। এ ধরনের বিশেষ মিশনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রশিক্ষিত ইউনিট রয়েছে, যা ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (সিএসএআর) নামে পরিচিত।সিএসএআর মিশন কী?
সিএসএআর এমন একটি সামরিক অভিযান, যার উদ্দেশ্য ভূপাতিত পাইলট বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সেনাদের খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা। এটি সাধারণ দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযানের চেয়ে আলাদা, কারণ এই মিশন পরিচালিত হয় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশে। সাধারণত এসব অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও অন্যান্য যুদ্ধবিমান পাহারায় থাকে, যাতে প্রয়োজন হলে সহায়তা দেওয়া যায়।‘ভয়ংকর ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’
সি বি সি নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যারারেসকিউ জাম্পারস স্কোয়াড্রনের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানের মতো এলাকায় পরিচালিত এমন অভিযানে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে করে অন্তত ২৪ জন প্যারারেসকিউ জাম্পার চিরুনি তল্লাশি চালান। প্রয়োজনে তারা উড়োজাহাজ থেকে লাফ (জাম্প) দেওয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে থাকেন। ভূমিতে অবতরণের পর তাদের প্রধান কাজ হয় নিখোঁজ ক্রুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয় এবং শত্রুর নজর এড়িয়ে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সাবেক ওই কমান্ডার বলেন, ‘এই ধরনের অভিযানকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলা হলেও তা যথেষ্ট নয়। মার্কিন বাহিনী যাকে খুঁজছে, একই ব্যক্তিকে খুঁজতে ইরানি বাহিনীও ওই এলাকায় সক্রিয়ভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে—এমনটাই ধরে নেওয়া যায়। বিশ্বজুড়ে অল্পসংখ্যক মানুষই এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। তাদের মার্কিন বিমানবাহিনীর “সুইস আর্মি নাইফ” বলা হয়।’
শুক্রবার ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের-এর আকাশে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার এবং অন্তত একটি জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ উড়ছে।
মার্কিন মেরিন কোরের স্পেশাল অপারেশনস বিশেষজ্ঞ জোনাথন হ্যাক বিবিসি-এর ‘World Tonight’ অনুষ্ঠানে বলেন, একটি উদ্ধারকারী দলের প্রথম লক্ষ্য থাকে নিখোঁজ ব্যক্তির বেঁচে থাকার কোনো চিহ্ন খুঁজে বের করা। তিনি বলেন, ‘তারা নিখোঁজ ব্যক্তির সর্বশেষ অবস্থান থেকে অনুসন্ধান শুরু করে ধাপে ধাপে পেছনের দিকে বিশ্লেষণ করে। বৈরী পরিবেশে ওই ব্যক্তি কত দ্রুত সরে যেতে পারেন, তার ওপর ভিত্তি করেই তল্লাশি পরিচালিত হয়।’
তিনি আরও জানান, আলোচিত এই উদ্ধার অভিযানটি সম্ভবত একটি ‘নন-স্ট্যান্ডার্ড অ্যাসিসটেড রিকভারি মিশন’ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, আগে থেকেই স্থানীয় কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে জরুরি সহায়তার পরিকল্পনা তৈরি করে রাখা হয়, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়।