মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই সৌদি আরব ও কাতার-এর সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। একই সময়ে, রাশিয়া উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ইরান-এ সরবরাহ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে পৃথকভাবে ১০ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, এই চুক্তিগুলোর আওতায় যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং উভয় দেশের ভূখণ্ডে প্রতিরক্ষা কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর সঙ্গেও একই ধরনের একটি চুক্তি করার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কিছু কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, রাশিয়া ইরানের কাছে উন্নতমানের ড্রোন সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে অত্যন্ত সক্রিয় আলোচনা হয়েছে এবং কিছু চালান ইতোমধ্যে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, আজারবাইজান হয়ে ট্রাকের মাধ্যমে মানবিক সহায়তার আড়ালে এসব ড্রোন পরিবহন করা হতে পারে।
তবে এই সরবরাহ এককালীন নাকি দীর্ঘমেয়াদি—তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে এবং পরে সেই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে।
নতুন সংস্করণের এসব ড্রোনে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যেমন—প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত করতে সক্ষম ডিকয় ড্রোন, জেট ইঞ্জিন, উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি, উন্নত ক্যামেরা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ন্ত্রণ এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন প্রতিহত করতে উন্নত ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা সব দেশের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই।
ইউক্রেনে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণেও রাশিয়া-ইরান প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইরানকে উন্নত ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া
