অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ বছর বয়সী ইয়েহুদা শারম্যান কোয়াড বাইকে থাকা অবস্থায় একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হওয়ার পর উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালায়। জালুদ, কারিউত, আল-ফান্দুকুমিয়া ও সিলাত আদ-ধাহসহ বিভিন্ন গ্রামে ঘরবাড়ি, যানবাহন ও কৃষিজমিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার আগে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। রাতারাতি ২০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে মুখোশধারী বহু লোককে গ্রামে ঢুকে হামলা চালাতে দেখা যায়, যদিও এসব ভিডিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী ঘটনাস্থলে সেনা ও সীমান্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এদিকে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বেসামরিক জনগণের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইসরায়েলি পুলিশ দেইর আল-হাতাব এলাকায় পাঁচজনকে আটক করেছে এবং জানিয়েছে তারা সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ইয়েশ দিন এই ঘটনাকে ‘পোগ্রম’ বা হত্যাযজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, আগে থেকে তথ্য থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। ইয়েহুদা শারম্যানের জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেয় এবং এতে কট্টরপন্থী রাজনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন। একই সময়ে বসতি স্থাপনকারীরা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালায় এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কাও দেখা দেয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগ ঘটনাই সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর ঘটেছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিরোধী নেতারা সরকারকে দায়ী করে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অব্যাহত রয়েছে, যেখানে বর্তমানে লাখ লাখ ইহুদি ও ফিলিস্তিনি পাশাপাশি বসবাস করছে এবং আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতিকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
