মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে যখন বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া এবং কোটি কোটি মানুষ বিদ্যুতের বাড়তি খরচে হিমশিম খাচ্ছে, তখনও জার্মানির ছোট্ট গ্রাম ফেল্ডহাইম রয়েছে সম্পূর্ণ স্বস্তিতে ও দুশ্চিন্তামুক্ত; প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে, যেখানে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল এবং অনেক কম—জার্মানির অন্যান্য অঞ্চলে যেখানে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের জন্য গড়ে ০.৩৫ ইউরো খরচ করতে হয়, সেখানে ফেল্ডহাইমবাসীরা দেয় মাত্র ০.১২ ইউরো; এই সাফল্যের মূল রহস্য হলো স্থানীয়ভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন, বিশেষ করে গ্রামজুড়ে স্থাপিত উইন্ড টারবাইন এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, যা গবাদি পশুর বর্জ্য, ভুট্টা ও শস্য থেকে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন করে; ১৯৯০-এর দশকে প্রকৌশল শিক্ষার্থী মিশায়েল রাশেমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্প পরে “এনার্জিকুয়েলে” প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্তৃত হয় এবং ধীরে ধীরে গ্রামবাসীদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপ নেয়; ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশীদারিত্বে গড়ে ওঠে স্বাধীন বিদ্যুৎ গ্রিড, যার ফলে গ্রামটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতের বেশিরভাগ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেও নিজেদের জন্য কম খরচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়; ছোট ও ঘনিষ্ঠ কমিউনিটি, পরিকল্পিত অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই চারটি মূল শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে ফেল্ডহাইম আজ বিশ্ববাসীর জন্য এক অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে, যা প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে একটি ছোট গ্রামও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বনির্ভর থাকতে পারে।
