চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো কয়েক মাস আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ান তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়ায় নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চীনের জ্বালানি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রধান তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্যাংকারে আগে থেকেই লোড করা রুশ অপরিশোধিত তেল ক্রয় করা যাবে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে রুশ তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে সিনোপ্যাক ও পেট্রোচায়নার মতো বড় কোম্পানির ট্রেডিং ইউনিটগুলো বিষয়টি সক্রিয়ভাবে যাচাই-বাছাই করছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিকল্প উৎস খোঁজা তাদের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।
এদিকে, চীনের কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগার স্থানীয় বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর মজুত করা রুশ তেল কেনার দিকেও নজর দিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল মজুত করেছিল। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সেই তেল নিজেদের প্রক্রিয়াজাত করার চেয়ে বড় কোম্পানির কাছে বিক্রি করা তাদের জন্য বেশি লাভজনক হতে পারে।
বিশ্ববাজারে রুশ অপরিশোধিত তেলের দাম সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ায় এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ছাড়ে বিক্রি হতো, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে এশিয়ায় ভাসমান সংরক্ষণে থাকা বিপুল পরিমাণ রুশ তেল নিয়ে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। তখন অনেক দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেল এড়িয়ে চললেও এখন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়ের ফলে এশিয়ার বাজারে রুশ তেলের চাহিদা আবার বাড়ছে, যা সরবরাহ প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তবুও ব্রাজিল বা পশ্চিম আফ্রিকার তুলনায় রুশ তেল এখনো তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে এটিকে আকর্ষণীয় রাখছে।
বিশেষ করে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে আসা ইএসপিও গ্রেডের তেল, যা আগামী মাসগুলোতে সরবরাহ হওয়ার কথা, তা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে প্রস্তাব করা হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য গ্রেডের রুশ তেলও ব্রেন্টের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রিমিয়ামে লেনদেন হচ্ছে।