ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২১ মার্চ) ২২তম দিন পূর্ণ হলো। এই সংঘাতের সূচনা ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন হামলার প্রথম দিনে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে।
ইরান প্রতিশোধ হিসেবে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে, ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
চলতি সপ্তাহে ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রাগারে মার্কিন বোমাবর্ষণের কারণে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা কেবল ওই স্থাপনাটিকে ধ্বংস করেনি, বরং জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারি করার জন্য ব্যবহৃত গোয়েন্দা কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্রের রাডার রিলেগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘এর ফলে হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আমরা এই ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখব।’ তিনি আরও দাবি করেন, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের ৮ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ১৩০টি ইরানি নৌযানও রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত রাতে তেহরানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্যবস্তুতে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের একটি গুদাম, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি স্থাপনা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী একটি কেন্দ্র।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই হামলার ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।’