রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার পথ উন্মুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউউ)। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা ৯০ বিলিয়ন ঋণচুক্তি অনুমোদন করেছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটে ২৯৮ জন আইনপ্রণেতা চুক্তির পক্ষে ভোট দেন, যেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ২২৬ ভোট। ভোটের পরপরই প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনীয় সংসদ সদস্য ও ইউরোপীয় অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন,“এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটগুলোর একটি। ইউক্রেনের ঐক্যই সবসময় ইউক্রেনকে শক্তিশালী করেছে।”
এই সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে ইউক্রেন আগামী জুন মাস থেকেই প্রথম কিস্তির অর্থ পেতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। কিয়েভ সরকার আশা করছে, আগামী মাসে প্রায় ৩.২ বিলিয়ন এবং চলতি বছরে মোট ৪৫ বিলিয়ন অর্থ হাতে পাবে। অবশিষ্ট ৪৫ বিলিয়ন ২০২৭ সালে বিতরণ করা হবে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো জানিয়েছেন, এই অর্থ মূলত জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার, জ্বালানি অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং চলমান বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যয় করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানেরও প্রতীক। বিশেষ করে হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের ভেটো প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া ইউরোপের অভ্যন্তরীণ ঐক্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
অন্যদিকে মস্কো এই পদক্ষেপকে পশ্চিমা সামরিক জোটের অংশ হিসেবে দেখছে এবং ইউরোপের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহায়তা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্বেও অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। অবকাঠামো ধ্বংস, জ্বালানি সংকট এবং ক্রমাগত সামরিক ব্যয়ের কারণে দেশটির বাজেট ঘাটতি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহায়তা কিয়েভ প্রশাসনের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থায়ন যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ইউরোপ-রাশিয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।