ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, কোনো এক ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যেক ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ ভূমিকা রয়েছে—কেউ ভালো, কেউ মন্দ। তবে মূল বিষয় হলো ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত দৃঢ় ও সুসংগঠিত।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী সচিব আলি লারিজানির হত্যাকাণ্ড ইরানের নেতৃত্বের জন্য কোনো মরণোত্তর ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছেন আরাগচি।
এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার একক কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান থেকে লারিজানির হত্যার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর এই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়।
তিনি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো রয়েছে, যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এই কাঠামোর কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে না।”
আরাগচি যুদ্ধের প্রারম্ভে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিশাল জাতীয় ক্ষতি সত্ত্বেও “ব্যবস্থাটি সচল রয়েছে।” তিনি যোগ করেন, “আমাদের কাছে খোদ নেতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছিল না। নেতা শহীদ হলেও ব্যবস্থাটি সচল থাকে এবং তার স্থলাভিষিক্ত দ্রুত নিশ্চিত করা হয়। অন্য কেউ শহীদ হলেও একই চিত্র দেখা দেবে। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ হলেও তার স্থানে অন্য কেউ আসবে।”
৬৭ বছর বয়সী আলি লারিজানি ছিলেন নিহত আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি। যুদ্ধ শুরুর ১৯ দিন পর খামেনির পর লারিজানিই তেহরান নেতৃত্বের নিহত হওয়া সর্বোচ্চ পদস্থ ব্যক্তি ছিলেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলাইমানিও নিহত হয়েছেন। তিনি ‘শত্রুদের’ হামলায় প্রাণ হারান। গত ছয় বছর ধরে সোলাইমানি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং চলমান সংঘাতে প্রধান রূপকারের ভূমিকায় ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করে যুদ্ধ শুরু করা কোনো স্বাভাবিক প্রথা নয়। তিনি বলেন, “যুদ্ধে নির্বাচিত নেতা বা রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করা শুরু হয় না। এই ধরনের হত্যাকাণ্ড সন্ত্রাসবাদ এবং গুপ্তহত্যার মতো। যুদ্ধের স্বাভাবিক রীতি এটি নয়।”
বিশারা মনে করেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী, একজন নেতাকে হত্যা করলেই এটি ভেঙে পড়বে না। তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা কিছু প্রভাব ফেলতে পারে।
আরাগচি সাক্ষাৎকারে আবারও বলেন, এই যুদ্ধ তেহরানের পছন্দ নয় এবং শেষ পর্যন্ত এর দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি। যুক্তরাষ্ট্র এটি শুরু করেছে এবং এর সব মানবিক ও আর্থিক পরিণতির দায় তাদেরই বহন করতে হবে—ইরান হোক, এই অঞ্চল হোক বা পুরো বিশ্ব হোক।”