প্রথম ড্রোনটি আঘাত হানে রাত দেড়টার দিকে। এতে সৃষ্ট গর্ত দিয়ে প্রায় ৬০ সেকেন্ড পর ভেতরে ঢুকে পড়ে আরেকটি ড্রোন, এরপরই ‘বুম’।
ঘটনা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র স্টেশনও চুরমার হয়ে যায়।
গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, গত ৩ মার্চ একটি ইরানি ড্রোন কূটনৈতিক এলাকার কাছে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। প্রায় এক মিনিট পর একই পথ ধরে আরেকটি ড্রোন ভেতরে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়।
এই হামলায় সামান্য আগুন লাগে এবং খুব সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পরে জানায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই গণমাধ্যম জানায়, আগুন প্রায় আধা দিন ধরে জ্বলেছিল এবং দূতাবাসের কিছু অংশে এমন ক্ষতি হয়েছে যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়।
দূতাবাস ভবনের একটি সুরক্ষিত অংশ ভেদ করে সিআইএ স্টেশনে আঘাত হানার ঘটনাটি ইরানের গোয়েন্দা সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, যদি দিনের বেলায়—যখন ভবনটি কর্মীতে পূর্ণ থাকে—ড্রোনটি আঘাত হানতো, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারতো। মার্কিনিরা যেসব জায়গাকে সুরক্ষিত মনে করতো, ইরান যে সেখানেও পৌঁছাতে সক্ষম—এই হামলার মাধ্যমে তেহরান সম্ভবত সেই বার্তাই দিতে চেয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ কূটনৈতিক স্থাপনার মতো রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসেরও নিজস্ব কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তার জন্য দূতাবাসটি মূলত সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল।
সৌদি সামরিক বাহিনী একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কাছাকাছি একটি প্রাসাদের নিরাপত্তা দেয়; ওই প্যাট্রিয়টের আওতার মধ্যে মার্কিন দূতাবাসও পড়ে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তারা।
ড্রোন হামলার রাতেই ইরান সৌদি আরবে অবস্থানরত সর্বোচ্চ পদমর্যাদার এক কূটনীতিকের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। দূতাবাস থেকে মাত্র কয়েকশ ফুট দূরেই ওই কূটনীতিকের বাসভবন অবস্থিত।
এরপরও ইরান রিয়াদের এমন অনেক স্থানে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো আগে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত ছিল। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে তেহরানের হামলায় ই-থ্রি এডব্লিউিএসিএস রাডার বিমানসহ একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে এবং ডজনের বেশি সেনা আহত হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে তীব্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু রিয়াদ নয়, বাগদাদ, দুবাই, কুয়েত এবং ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে।
তবে এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এখন পর্যন্ত ইরানের হামলায় কেবল ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। তবে তেহরানের পাল্টা হামলায় পেন্টাগনের শতকোটি ডলার মূল্যের উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম।