আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তালেবান প্রশাসনের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পরিস্থিতিকে “সরাসরি সংঘাত” হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সীমান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাবুল ও কান্দাহারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সামরিক স্থাপনা ও চৌকিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এছাড়া পাকতিয়া প্রদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতেও উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, আফগান পক্ষ জানিয়েছে যে তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তানের কিছু সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আফগানিস্তান আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে রয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে। রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও সৌদি আরব পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে প্রতিবেশী ইরানও বিরোধ প্রশমনে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
সরাসরি যুদ্ধ’ বলছে পাকিস্তান, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায় আফগানিস্তান
