ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করে, ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন এলাকাকে লক্ষ্য করে খোররামশাহর-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপরও আঘাত হানা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা প্রায় ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তেল আবিবে ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়েছে এবং ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ রাডার কেন্দ্র মেরন এলাকাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান-ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি কাসর-ই শিরিন অঞ্চলে একটি ইসরাইলি হারমিস ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরান এবং আশপাশের এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আইআরজিসি, বাসিজ বাহিনী এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামের ভেতরে অবস্থিত একটি বড় স্পোর্টস হল হামলার ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঘাতের কারণে কিছু পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের শহীদ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,২৩০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অপরদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। ইসরাইলেও কয়েকটি হামলায় অন্তত ১২ জন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।