মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি কিউবাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান এবং এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, কিউবা বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তার ভাষায়, দেশটিকে “মুক্ত” করা হোক কিংবা সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হোক—যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তা করতে সক্ষম।
প্রায় সাত দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করে আসা কিউবা বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট ও তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের সমস্যার কারণে সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন, পর্যটনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে। জ্বালানির অভাবে বিমান চলাচলও কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
এই সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি পরবর্তী তেল অবরোধ কিউবার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কিউবা সরকার কিছু সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রবাসী নাগরিকদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট, খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতির কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মানুষ স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে।
কিছু স্থানে বিক্ষোভ সহিংস রূপও নিয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন জ্বালানি বিক্রি সীমিত করা এবং কিছু সরকারি সেবা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া। তবে প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করছে বলেই এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই কিউবা ইস্যুতে কোনো সমাধান বা সমঝোতা হতে পারে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।