আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা সৃষ্টি করা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর ও জঘন্য পাপ। পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন— يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ ۖ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ ۖ وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ اللَّهِ (সূরা আল-বাকারা: ২১৭) — অর্থ: তারা তোমাকে সম্মানিত মাসে যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলো, এতে যুদ্ধ করা বড় পাপ, কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, তাঁর সাথে কুফরি করা, মসজিদুল হারামে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদের বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও বড় অপরাধ। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, দ্বীনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ বলেন— اتَّخَذُوا أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّهِ فَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ (সূরা আল-মুজাদালাহ: ১৬) — অর্থ: তারা তাদের শপথকে ঢাল বানিয়েছে এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে; অতএব তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। দ্বীনের পথে বাধা দেওয়া মূলত শয়তানের কাজ। আল্লাহ বলেন— إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ (সূরা আল-মায়েদা: ৯১) — অর্থ: শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে; সুতরাং তোমরা কি বিরত হবে না? ইতিহাসে কিতাবধারীদের একটি অংশ আল্লাহর পথে বাধা দিত। আল্লাহ বলেন— قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ تَبْغُونَهَا عِوَجًا وَأَنتُمْ شُهَدَاءُ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (সূরা আলে ইমরান: ৯৯) — অর্থ: বলুন, হে কিতাবধারীরা! কেন তোমরা ঈমানদারদের আল্লাহর পথে বাধা দাও এবং তাতে বক্রতা খোঁজো, অথচ তোমরা এ পথের সত্যতা জানো? আল্লাহ তোমাদের কাজ সম্পর্কে অজ্ঞ নন। যারা আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা দেয়, তারা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। আল্লাহ বলেন— فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَن سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا (সূরা আন-নিসা: ১৬০) — অর্থ: ইহুদিদের জুলুমের কারণে এবং তারা অধিক পরিমাণে আল্লাহর পথে বাধা দেওয়ার দরুন, তাদের জন্য বহু পবিত্র বস্তু হারাম করে দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের জন্য হালাল ছিল। আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া মানুষকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ বলেন— إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّهِ قَدْ ضَلُّوا ضَلَالًا بَعِيدًا (সূরা আন-নিসা: ১৬৭) — অর্থ: যারা কুফরি করে এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে, তারা সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। আরও বলা হয়েছে— الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ (সূরা ইবরাহিম: ৩) — অর্থ: যারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়াকে ভালোবাসে এবং আল্লাহর পথে বাধা দেয় ও তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে, তারা সুদূর পথভ্রষ্টতায় নিপতিত। সবচেয়ে ভয়াবহ সতর্কতা হলো— إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ مَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ (সূরা মুহাম্মাদ: ৩৪) — অর্থ: যারা কুফরি করে এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কুফর অবস্থায় মারা যায়—আল্লাহ কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। অতএব, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা সৃষ্টি করা থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান করা।
