নেপালের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল তাকে এই পদে নিযুক্ত করেছেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে শপথ গ্রহণের সময় শাহ পরেছিলেন আঁটসাঁট ট্রাউজার্স ও জ্যাকেট, মাথায় কালো নেপালি টুপি এবং চোখে সানগ্লাস। অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নেপালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে নতুন সরকারের দায়িত্ব এখন বালেন্দ্র শাহের হাতে। ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর দল, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি), ২৭৫ সদস্যবিশিষ্ট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ১৮২ আসন পায়। এটি নেপালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে ৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ছিলেন, নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখালেন। তিনি মাধেসি নৃগোষ্ঠীর প্রথম নেতা, যিনি দেশকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। এই নৃগোষ্ঠী মূলত ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সমতল অঞ্চলে বসবাস করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্য বলেন, নতুন সরকারের প্রথম পরীক্ষা হবে জনগণের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পৌঁছে দেওয়া। মানুষ আগামী রোববার থেকেই সুশাসনের প্রাথমিক প্রভাব দেখতে চাইবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাহের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সময় ঘটানো সহিংসতার তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করা। প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিসহ দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থানের অভাব এবং দুর্নীতি দেশের তরুণদের মধ্যে অসন্তোষের মূল কারণ। নেপালের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে, এবং জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মানুষ বিদেশে পাড়ি জমায়।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের এবং চীনের মধ্যে অবস্থিত নেপালের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩২টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু কোনোটিই পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি।