যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শেষ চার দিনে যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কাও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ধর্মীয় গবেষক ও বিশ্লেষক বলছেন, প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী হয়তো এখন সত্যি হতে চলেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর একাধিক ধর্মীয় বিশ্লেষক বাইবেলের বিভিন্ন অংশের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ম্যাথু ২৪:৬-৭ অনুচ্ছেদে যিশুর উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, “তোমরা যুদ্ধ ও যুদ্ধের গুজব শুনবে, কিন্তু ভয় পেয়ো না। এসব ঘটতেই হবে, তবে শেষ এখনো আসেনি। জাতির বিরুদ্ধে জাতি এবং রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজ্য উঠবে।”
ইজেকিয়েল ৩৮:৫ অনুচ্ছেদেও ‘পারস্য’-এর উল্লেখ রয়েছে, যা আধুনিক ইরানের প্রাচীন নাম হিসেবে ধরা হয়। এখানে বলা হয়েছে, “পারস্য, কুশ ও পুট সবাই ঢাল ও শিরস্ত্রাণ নিয়ে থাকবে।” ধর্মীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ভবিষ্যদ্বাণী শেষ জমানায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৬ লাখেরও বেশি দর্শকপ্রিয় পডকাস্টের ধর্মীয় গবেষকরা গত বছরের জুনে দুটি ভবিষ্যদ্বাণীর পূরণ হওয়ার সতর্কতা দিয়েছিলেন। প্রথমটি হলো থেসালোনিকীয় ৫:৩-এ লেখা, “যখন মানুষ বলছে শান্তি ও নিরাপত্তা, তখনই হঠাৎ বিনাশ আসবে।” দ্বিতীয়টি হলো ইশাইয়ার ভবিষ্যদ্বাণী, “দামেস্ক আর শহর থাকবে না, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।”
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর রাষ্ট্রপতি ‘এখনই শান্তির সময়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে দামেস্কের একটি গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় ২২ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। তারা বলছেন, একই দিনে এই দুটি ঘটনা ঘটায় ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, “বিশ্বে শান্তির আহ্বান অনেকের কাছে শেষ দিনের ভবিষ্যদ্বাণীর চিহ্ন হিসেবে দেখা হতে পারে।” তারা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ার সময়ে এই শান্তির নতুন আহ্বান অনেককে মিথ্যা নিরাপত্তাবোধে ফেলে দিতে পারে, অথচ পরিস্থিতি বলছে সম্পূর্ণ বিপরীত।
তবে উল্লেখযোগ্য, এসব ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যাখ্যা ধর্মীয় বিশ্লেষকদের নিজস্ব মতামত। অধিকাংশ ধর্মতত্ত্ববিদ ঐতিহাসিক ও সতর্ক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের ব্যাখ্যা মূল্যায়ন করেন।
সূত্র– ডেইলি মেইল
“ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ও দামেস্কে হামলা: ধর্মীয় বিশ্লেষকদের চোখে শেষ দিনের চিত্র”
