মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেলান্ড ট্রাম্প-এর অবস্থান নিয়ে সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে; শুধু যুদ্ধ কৌশল নয়, বরং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান-কে নিয়ে ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে; ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা Chatham House-এর সহযোগী ফেলো ও সৌদি বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়াম এক সাক্ষাৎকারে জানান, হোয়াইট হাউজের প্রতি রিয়াদের আস্থা বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে এবং সৌদি আরব এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “চরমভাবে হতাশ”; প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি, যুদ্ধের ব্যয় আরব দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত এবং সৌদি নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তি সৌদি নেতৃত্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে; বিশেষ করে ট্রাম্পের একটি অশালীন মন্তব্য তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য অপমানজনক এবং দীর্ঘমেয়াদে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে; নিল কুইলিয়াম মনে করেন, এই বক্তব্য শুধু সৌদি নেতৃত্বকে বিব্রতই করেনি, বরং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে; ট্রাম্পের আরেকটি মন্তব্যও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, যারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে সুবিধা নেয়, তাদেরই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে, যা বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে; এদিকে Princeton University-এর অধ্যাপক বার্নার্ড হয়কেল , শুরুতে সৌদি আরব ধারণা করেছিল—যদি ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায় এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে অংশ নেয়, তাহলে তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে; তাদের প্রত্যাশা ছিল, এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে; ইরান যেভাবে পাল্টা আক্রমণে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, তাতে সৌদি আরব নতুন করে তাদের কৌশল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে; বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান, ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং সৌদি আরবের কৌশলগত পরিবর্তন—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এক জটিল সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
