পাকিস্তান সরকার জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী পারভেজ মালিক জানান, সরকার জনগণকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাজেট সীমাবদ্ধতা এবং চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় জ্বালানির মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, পেট্রোলের দাম প্রায় ৪২.৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৪.৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫৮.৪০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১.৬৪ মার্কিন ডলার), যা শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৫২০.৩৫ রুপি (প্রায় ১.৮৬ ডলার)।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ডিজেল বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ ও গণপরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পাকিস্তান, যা মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে চাপে পড়েছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর ৬ মার্চও পাকিস্তান জ্বালানির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু মিতব্যয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি দপ্তরে চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বৃদ্ধি এবং অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা।
এই সংকট শুধু পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ নয়; এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশেও সম্প্রতি রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি এবং যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, আই এম এফ সতর্ক করে জানিয়েছে, পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলো কেবল জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে নয়, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণেও বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।
আইএমএফ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক এবং লাতিন আমেরিকার কিছু অঞ্চল ইতোমধ্যে উচ্চ খাদ্যদ্রব্য ও সারমূল্য, পাশাপাশি কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে।