বিদেশি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ইরান বিশেষ বুলডোজার টিম ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে ধসে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট বা সাইলো (মিসাইল সংরক্ষণের বিশেষ ভাণ্ডার) একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।
ইরানের ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর অধিকাংশ কর্মকর্তার ধারণা, ইরানের মোট ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে এখন মাত্র কয়েকশ অবশিষ্ট রয়েছে, যা ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপযোগ্য। তবে আইডিএফ-এর কিছু সূত্র দ্য জেরুজালেম পোস্ট-কে জানিয়েছে, ইরানের প্রকৃত অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন।
গত শনিবার রাতে চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্নেল ‘টি’ [ছদ্মনাম] দাবি করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছে এখনো ১,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই তথ্য আইডিএফ-এর পূর্ববর্তী অনুমান (কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র) থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জেরুজালেম পোস্ট-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় সামরিক বাহিনী প্রথমে তাদের আগের হিসাবের পক্ষেই অবস্থান নেয়, তবে পরে স্বীকার করে যে প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে কেউ নিশ্চিত নয়।
ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের কত ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধারযোগ্য?
এখন মূল প্রশ্ন হলো, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কতগুলো শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে? এর অনেকগুলো হয়তো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি, বরং সাময়িকভাবে ইরানের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এই প্রশ্নের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত—ধ্বংসস্তূপের ধস কতটা ছোট নাকি বড় আকারের হয়েছে? এর ওপর নির্ভর করছে ইরান কত দ্রুত বা আদৌ এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে পারবে।
বিদেশি সূত্রের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ইরান এমন প্রযুক্তি ও বুলডোজার ইউনিট তৈরি করেছে, যার সাহায্যে ধসে পড়া সাইলো বা ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট একদিনেরও কম সময়ে উদ্ধার করা সম্ভব। ফলে এসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শুধু দীর্ঘমেয়াদি মজুত নয়, বরং স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র (লঞ্চার) বিষয়টি ভিন্ন। ইরানের কতগুলো ব্যালিস্টিক লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে এবং কতগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অচল হয়ে আছে—তা নিয়ে আইডিএফ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ লঞ্চার অন্তত অস্থায়ীভাবে অকেজো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে এবং বাকি ৫০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।
বিভ্রান্তির বিষয় হলো, মাঝে মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও আইডিএফ দাবি করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ৯০ শতাংশ কমে গেছে। কিন্তু আবার অন্য সময়ে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুদ্ধের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কমছে
সাধারণভাবে যুদ্ধের চতুর্থ দিনের মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার হার দৈনিক ২০টির নিচে নেমে আসে, এবং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তা আরও হ্রাস পেয়েছে। এসব অনির্দিষ্ট তথ্যের কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আসলে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যা পরিস্থিতি বোঝাতে সহায়ক। যেমন, ইসরায়েল জানিয়েছে যে ইরান তাদের লক্ষ্য করে ৫০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর মতে, ইরান তাদের ওপর মোট প্রায় ১,৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
আইডিএফ-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। সেই হিসেবে ইসরায়েল যদি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস না করে থাকে, তবুও এখন ইরানের হাতে ৭০০-র কম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা। আর যদি আইডিএফ কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে থাকে, তাহলে ইরানের হাতে বর্তমানে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকতে পারে।
তবে একটি সম্ভাবনা এখনো রয়ে গেছে—যুদ্ধের শুরুতে আইডিএফ হয়তো ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কম করে অনুমান করেছিল। এর আগেও এমন হয়েছে; ২০২৫ সালের জুনে আইডিএফ বলেছিল ইরানের কাছে ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, কিন্তু কয়েক মাস পর সেই সংখ্যা সংশোধন করে ৩,০০০ বলা হয়।
সূত্রঃ দ্য জেরুজালেম পেষ্ট