তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সরকারের প্রস্তাবিত প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেটের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন দেওয়ায় বিরোধী-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র ক্রয়, ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দেশীয় সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত বাজেট চেয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা যথেষ্ট স্বচ্ছ নয় এবং এতে দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তারা কেবল বিদেশি অস্ত্র ক্রয়ের অংশ অনুমোদন করে বাকি অংশ কমিয়ে দেয়।
এই বিক্ষোভ আয়োজন করে কয়েকটি স্বাধীনতাপন্থী ও মানবাধিকার সংগঠন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা হাতে “শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়” — এমন স্লোগান দেন।
একজন আন্দোলনকারী নেতা বলেন, “বাস্তব শান্তি কেবল শক্তিশালী প্রতিরক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্বলতা কখনো স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি বাজেট বিতর্ক নয়; বরং এটি তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং চীনের হুমকির বিরুদ্ধে কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির চারপাশে সামরিক মহড়া ও চাপ আরও বাড়িয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে তাইওয়ান সরকার দ্রুত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাইছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর দাবি, তারা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিরোধী নয়; তবে অস্বচ্ছ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়ের অনুমোদন দিতে চায় না। তাদের মতে, তাইওয়ানের উচিত যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক পথও শক্তিশালী করা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্যও তাইওয়ানের পার্লামেন্টকে দ্রুত পূর্ণ প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি চীনের প্রতি একটি শক্ত বার্তা দেবে যে তাইওয়ান নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রস্তুত।
বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তাইওয়ান ইস্যু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি। প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ভবিষ্যতে পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।