মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সিইএনটিকম) সোমবার জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে “আত্মরক্ষামূলক” সামরিক হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে মার্কিন সেনাদের জন্য সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি হওয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল সমুদ্রে মাইন পেতে চেষ্টা করা নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।
সেন্টকমের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন,
“চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সংযম বজায় রেখে আমাদের সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাতে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালীতে দুটি ইরানি নৌযানকে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই হামলার অর্থ এই নয় যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এখনো উত্তেজনা সীমিত রাখার কৌশল অনুসরণ করছে।
অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রবিবার হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপের দক্ষিণে ইরানি নৌযানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি যুদ্ধবিমান যৌথ হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পরিস্থিতি বর্তমানে “স্বাভাবিক ও শান্ত” রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।