ইস্টারের আগের বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক ধর্মীয় বক্তব্যে পোপ মন্তব্য করেন, খ্রিষ্টীয় মিশন অনেক সময় ‘আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে বিকৃত’ হয়েছে, যা যিশু খ্রিস্টের-এর শিক্ষা ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘যিশু খ্রিষ্টের নামে’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিজয়ের জন্য প্রতিদিন প্রার্থনা করেন। তবে প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশ ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, খ্রিস্টধর্মকে অনেক সময় এমন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর মূল শিক্ষা ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই পোপ সহিংসতা বন্ধ এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
রোমের Basilica of Saint John Lateran-এ পবিত্র বৃহস্পতিবারের এক অনুষ্ঠানে পোপ বলেন, “আমরা যখন আধিপত্য বিস্তার করি, তখন নিজেদের শক্তিশালী মনে করি; যখন সমকক্ষ কাউকে ধ্বংস করি, তখন নিজেদের বিজয়ী ভাবি; আর যখন অন্যরা আমাদের ভয় পায়, তখন নিজেদের মহান মনে করি। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের শিখিয়েছেন দমন নয়, মুক্তি; ধ্বংস নয়, জীবন দান।”
এর আগে মার্চের শেষ দিকে দেওয়া আরেক বক্তব্যে পোপ যুদ্ধের জন্য যিশুর নাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, যিশু ‘যারা যুদ্ধ করে তাদের প্রার্থনা গ্রহণ করেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।’
পোপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরেই তিনি সরাসরি মার্কিন রাজনীতিতে জড়ানো থেকে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং হেয়াট হাউস-এর সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলেছেন। তবে পরোক্ষভাবে তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর যখন প্রেসিডেন্ট ডেলান্ড ট্রাম্প অভিবাসী বিতাড়ন নীতিকে জোরদার করেন, তখন পোপ যুক্তরাষ্ট্রের বিশপদের অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পোপ ট্রাম্প প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। ৩১ মার্চ রোমের বাইরে ক্যাস্টেল গানডলফোতে তিনি বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আমি আশা করি, তিনি সহিংসতা ও বোমাবর্ষণ কমানোর পথ খুঁজবেন।”
পোপ আরও জানান, যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ভ্যাটিকানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট Isaac Herzog-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংলাপ ও সংঘাত নিরসনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।