ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী পদক্ষেপের সঙ্গে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রশ্ন উঠলে ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহ একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সে ক্ষেত্রে সরকার কাঠামোর বড় অংশ অক্ষুণ্ণ রেখেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, সেখানে কেবল শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া অধিকাংশ কর্মকর্তা তাদের দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
অন্যদিকে ইরানের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, চলমান সংঘাতে দেশটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। এতে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ইরানে কাকে নেতৃত্বে দেখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কোনো নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, তার কাছে কয়েকটি সম্ভাব্য বিকল্প রয়েছে, তবে সময় না আসা পর্যন্ত তা প্রকাশ করবেন না।
একই সঙ্গে তিনি আরেকটি সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন—ইরানের জনগণ নিজেরাই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারে। তার ভাষায়, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানি জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বহু বছর ধরে তারা পরিবর্তনের কথা বলছে, তাই বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
এই বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, হামলার পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান পুরোপুরি নির্দিষ্ট নয়; বরং বিভিন্ন সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
সংঘাতের সম্ভাব্য সময়সীমা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কতদিন স্থায়ী হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। তার মতে, সামরিক অভিযানটি চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদিও বাস্তব পরিস্থিতির ওপর সময় নির্ভর করবে।
তিনি আরও বলেন, বড় ভৌগোলিক পরিসরের কারণে অভিযান পরিচালনায় সময় লাগতে পারে। প্রশাসন কয়েক সপ্তাহব্যাপী কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সরঞ্জাম রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মজুত ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনায় কোনো ঘাটতি হবে না।