ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেন, ইসরাইল যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, বাস্তবে সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তবে এ বক্তব্যের পর ভিন্ন সুর শোনা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাছ থেকে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই অভিযানের দায়ভার তিনি নিজেই নিচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসে জার্মানির চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তেলআবিবকে তিনি সরাসরি উসকানি দেননি। বরং তার আশঙ্কা ছিল—ইরান আগে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাতে পারে। সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই তিনি আগাম পদক্ষেপ নেন এবং ইসরাইলের সহযোগিতায় সামরিক অভিযান শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইরানের বিমান ও নৌ সক্ষমতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, মার্কিন বাহিনী প্রায় ১,৭০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অভিযান অব্যাহত থাকলে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তার বিশ্বাস ছিল ইরান প্রথমে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এই অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যদি নতুন নেতৃত্ব আগের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তাহলে সেটিই সবচেয়ে উদ্বেগজনক হবে। বিদেশে অবস্থানরত রেজা পালাহভিকে তিনি সম্ভাব্য নেতৃত্বের উপযুক্ত মনে করেন না। তার মতে, ইরানের নেতৃত্ব ইরানের ভেতর থেকেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, যৌথ হামলা শুরুর পর ইরান আলোচনার আগ্রহ দেখালেও এখন আলোচনার সময় শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপ্লবী গার্ডের প্রভাবের মধ্য দিয়ে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া যায়। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরাইলে আক্রমণ চালায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।