বেলারুশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেস্কা বৈঠকে বলেন, বর্তমান সংঘাত শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি বিশ্বকে অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর—বিশেষ করে ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের—দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে যেকোনো সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ ধরনের হামলায় নিরীহ নাগরিক, বিশেষত শিশুদের জীবনহানি ঘটে—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৈঠকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট ইরানের রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চান, চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বেলারুশ কীভাবে সহায়তা করতে পারে। এতে বোঝা যায়, মিনস্ক কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মার্কিন ব্যবহারকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের ব্যবধানে বহু বছরের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।