মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের কাছে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছানোর খবর সামনে এসেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নয়, বরং দুইটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানে পাঠায়।
তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি বলে জানা গেছে। আলোচনায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সূত্রটি আরও উল্লেখ করে, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত বৈঠকগুলোতে মোজতবা খামেনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ামূলক নীতির প্রতি জোর দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি সম্প্রতি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পূর্ণ সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশ করেছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, তারা নতুন নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানির মৃত্যুর দাবিও করা হয়েছে।
তবে এসব ঘটনার বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।