এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করে বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল অবকাঠামোর নতুন যুগ শুরু করতে বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলটির অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। উজবেকিস্তানের সামারকান্দে এডিবির বার্ষিক সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাটো কান্ডা বলেন, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল সংযোগই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে। তাঁর মতে, দেশগুলোকে একত্রে যুক্ত করতে পারলে বিদ্যুতের খরচ কমবে, সুযোগ বাড়বে এবং কোটি মানুষের জীবন সহজ হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা একক নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে এবং এজন্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে, যাতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহজে দেশগুলোর মধ্যে আদান-প্রদান করা যায়। পাশাপাশি ট্রান্সমিশন লাইন, সাবস্টেশন, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও গ্রিড ডিজিটাইজেশন উন্নত করা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় ২০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সীমান্ত পেরিয়ে সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রায় ২২ হাজার সার্কিট-কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন তৈরি হবে, ২০ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সুবিধা উন্নত হবে, প্রায় আট লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিদ্যুৎ খাতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় ১৫ শতাংশ কমে আসবে। এই অর্থের বড় অংশ দেবে এডিবি এবং বাকি অংশ আসবে উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাত থেকে। অন্যদিকে ডিজিটাল সংযোগ বাড়াতে এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে নামে আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, সাবমেরিন কেবল, স্যাটেলাইট সংযোগ ও ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে পুরো অঞ্চল দ্রুত ও আধুনিক ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২০ কোটি মানুষ প্রথমবার ইন্টারনেট সুবিধা পাবে এবং আরও ৪৫ কোটি মানুষ দ্রুত ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবে, বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং প্রায় ৪০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ডিজিটাল উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে একটি এআই উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
