মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে, চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং থাইল্যান্ডের পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে, দেশগুলো এখন মরিয়া হয়ে বিকল্প উৎস খুঁজছে, অস্থায়ী সমাধানে ঝুঁকছে, পণ্য বিনিময় বা ‘এনার্জি সোয়াপ’ কৌশল অবলম্বন করছে এবং রেশনিং ও কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো টোকিও সফরে এলএনজি-এলপিজি বিনিময় প্রস্তাব দিয়েছেন, জাপানের সরকার-সমর্থিত তেল ও গ্যাস সংস্থা ইনপেক্স ভারতের সঙ্গে এলপিজি-এলএনজি বিনিময় চুক্তি করতে যাচ্ছে, ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জাপানের কাছ থেকে ডিজেল সহায়তা পেয়েছে, ভিয়েতনাম জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে, চীনের নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভিয়েতনাম ব্রুনাই, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অতিরিক্ত জেট ফুয়েলের জোগান চাচ্ছে, রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে, তবে ১১ এপ্রিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে চুক্তি কার্যকর করা বড় চ্যালেঞ্জ, সংকটের কারণে ফিলিপাইন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে, শ্রীলঙ্কা চার দিনের কর্মসপ্তাহ ও জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে, মিয়ানমারে ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের একদিন পর পর গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ইন্দোনেশিয়াও শীঘ্রই জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে, ছোট দেশগুলো যেমন নিউজিল্যান্ড বড় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠিন অবস্থায় রয়েছে, তারা ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করছে, জাপানের ইনস্টিটিউট অফ এনার্জি ইকোনমিক্সের সিনিয়র ফেলো হিরোশি হাশিমোতো বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে, তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য, তাই এশিয়ার দেশগুলোকে একে অপরকে সাহায্য করতে এবং বিকল্প উৎস নিয়ে আলোচনার জন্য বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক কাঠামো তৈরি করতে হবে, এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে একক দেশিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং সমন্বিত, অঞ্চলভিত্তিক কৌশল এবং বিপরীত পরিস্থিতিতে দ্রুত রপ্তানি ও আমদানি লজিস্টিক ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যাতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।
