মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান প্রায় শেষের পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে তিনি সতর্ক করে বলেন সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য চাপ অব্যাহত থাকায় আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে ইরানকে ভয়াবহ হামলা মোকাবেলা করতে হবে। গতকাল বুধবার রাতের ভাষণে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি তার প্রথম ভাষণ, যেখানে তিনি যুদ্ধক্লান্ত আমেরিকান নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন, এই অভিযানের পেছনে যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে, তার যথেষ্ট সার্থকতা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের অর্জিত সাফল্যের মাধ্যমে আমরা সঠিক পথে আছি এবং খুব দ্রুত সব সামরিক লক্ষ্য পূর্ণ হবে।” তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে সতর্ক করে হুঁশিয়ারি দেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে তাদের ওপর অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠোর হামলা চালাব।” ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্জরিত আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো—ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন—কে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবে না বা ব্যর্থ হতে দেবে না। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনও খোলা থাকতে পারে। তিনি বর্তমান নেতৃত্বকে পূর্বসূরিদের তুলনায় কম কট্টর এবং বেশি যুক্তিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সংঘাত সমাপ্তিতে কোনো চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে কোনো চুক্তি সম্ভব না হলে ওয়াশিংটন দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিশানায় রাখবে। ট্রাম্পের এই ভাষণ তেলের বাজারে বিশেষ শান্তির প্রভাব ফেলতে পারেনি, উল্টো বৃহস্পতিবার তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে কারণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে অন্যান্য দেশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকীর্ণ জলপথ বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করে। এটি কার্যত বন্ধ হওয়ায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বুধবার অঙ্গীকার করেছে যে, দেশের ‘শত্রুদের’ জন্য তারা এই জলপথ বন্ধ রাখবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ২৫% বা তার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, সাধারণ মানুষের এই অর্থনৈতিক কষ্ট রয়েছে, তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এটি সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি। তিনি বলেন, “দেশের ভেতরে গ্যাসোলিনের দাম সম্প্রতি যে হারে বেড়েছে, তা নিয়ে অনেক আমেরিকানই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে পুরোপুরি দায়ী ইরান সরকার, যারা প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, যাদের এই সংঘাতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আরও প্রমাণ করে যে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে ইরানকে কখনো বিশ্বাস করা যায় না।” ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনী প্রায় অস্তিত্বহীন, বিমানবাহিনী ধ্বংসপ্রায়, শীর্ষ নেতা ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা কমে গেছে। সমরাস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো ধ্বংস করা হয়েছে—অল্প কিছু সরঞ্জামই বাকি রয়েছে।” ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের যেকোন সময়ের চেয়েও বড় ও বিশাল জয় অর্জন করছে। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ধসে পড়েছে, অধিকাংশ শীর্ষ নেতা নিহত, এবং তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত কার্যকর নয়।
