হরমুজ প্রণালিতে এবং তার আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহরাইনের প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের জন্য প্রস্তুত। প্রস্তাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী বলপ্রয়োগের ব্যবস্থাও উল্লেখ রয়েছে।
কূটনীতিকরা জানিয়েছে, খসড়া ‘ব্লু প্রিন্ট’ আকারে চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ভোটাভুটির জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি আছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আজ শুক্রবার ভোট হওয়ার কথা থাকলেও জাতিসংঘের ছুটির কারণে তা শনিবার সকালে হতে পারে। অন্যদিকে, এএফপি জানিয়েছে যে নতুন ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বাহরাইন প্রস্তাবটি আনার সময় যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ সমর্থন জানিয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার অধিকার সদস্য রাষ্ট্রদের থাকবে। তবে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের অংশে চীন সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে। রাশিয়া এবং ফ্রান্সও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাসের জন্য অন্তত নয়টি ভোট প্রয়োজন এবং পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের মধ্যে কারও ‘ভেটো’ থাকা যাবে না। ইরান আগে থেকেই সতর্ক করেছে যে, আক্রমণকারী বা তাদের সমর্থকের যেকোনো উসকানি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
রয়টার্স জানায়, প্রস্তাবের চতুর্থ খসড়া ‘সাইলেন্স প্রসিডিউর’ বা মৌন সম্মতির মাধ্যমে অনুমোদনের জন্য রাখা হয়েছিল, কিন্তু চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া তা ভেঙে আপত্তি জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটাবে।
এএফপি জানায়, প্রস্তাবের ষষ্ঠ সংস্করণে সদস্য রাষ্ট্রদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বা ‘স্বেচ্ছাসেবী বহুজাতিক নৌ-অংশীদারিত্ব’ মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে সংশোধিত খসড়ায় সরাসরি জাতিসংঘ সনদের অধ্যায়-৭ উল্লেখ করা হয়নি, যা সশস্ত্র সামরিক ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আল-রোয়াইয়ি বলেন, অঞ্চল ও বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্তকারী অর্থনৈতিক সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না। প্রস্তাবটি একটি সংকটময় মুহূর্তে আনা হয়েছে এবং বিভিন্ন সংশোধনের মধ্য দিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সমর্থন করছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেল সংগ্রহের দায়িত্ব দেশগুলোকে নিজস্বভাবে নিতে হবে, মার্কিন বাহিনী এতে সরাসরি সহযোগিতা করবে না।