ভারতের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচি এবার নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দেশটি স্থানীয়ভাবে স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান নির্মাণের জন্য তিনটি সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব আহ্বান করেছে বলে বুধবার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ এন আই জানিয়েছে। এটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক বিমান শক্তি আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচিত তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে রয়েছে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, পাশাপাশি দুটি বৃহৎ যৌথ উদ্যোগ—একটি লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ও ভারত ইলেকট্রনিক্সের সমন্বয়ে গঠিত এবং অপরটি ভারত ফোর্জ ও বিএমইএল-এর যৌথ অংশীদারিত্ব। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের ক্রমবর্ধমান দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যাদের লক্ষ্য হলো উন্নত যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি দেশেই উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং বৈদেশিক নির্ভরতা কমানো।
এই উদ্যোগটি ভারতের পূর্ববর্তী জাতীয় স্টেলথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচির অনুমোদনের ধারাবাহিকতা, যেখানে সরকার প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় অংশগ্রহণ বাড়াতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আগ্রহ আহ্বান করেছিল। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতির পর এই কর্মসূচিকে আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রতিরক্ষা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভারতীয় বিমান বাহিনীর বর্তমান যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা অনুমোদিত ৪২টির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে নেমে এসেছে, মূলত পুরোনো রাশিয়ান নির্মিত যুদ্ধবিমান পর্যায়ক্রমে অবসর নেওয়া এবং নতুন বিমান সংযোজনে বিলম্বের কারণে। ফলে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষমতার ঘাটতি পূরণে এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে এই উদ্যোগ ভারতের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যেখানে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ এবং রাশিয়ার সু-৫৭ যুদ্ধবিমানের মতো উন্নত প্রযুক্তির প্রস্তাব মূল্যায়ন করলেও এখনো কোনো পক্ষের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে যায়নি। এর মাধ্যমে ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “মেক ইন ইন্ডিয়া” প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ দেশীয় উৎপাদন জোরদারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যার ফলে ইতোমধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এক লক্ষাধিক কোটি রুপির রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সরকারি তথ্য জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে তা শুধু ভারতীয় বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ শক্তি কাঠামোই নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে ভারতের অবস্থানকেও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে।